ইরানের ওপর গত দুই দশকে একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশটিতে সংগঠিত সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের ঘটনায় গত সপ্তাহে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে জোটটি। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইইউর দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দেশটির সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য অংশীদারত্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে জার্মানি। এর পরের অবস্থান ইতালির। খবর ইউরো নিউজ।
ইরানের ওপর প্রথমবার ২০০৬ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইইউ। এটি ছিল দেশটিতে পারমাণবিক কর্মসূচির অভিযোগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে নেয়া সম্মিলিত পদক্ষেপ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয় ইইউ। এ নিষেধাজ্ঞাগুলো একাধিকবার নবায়ন করে সর্বশেষ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউ ও ইরানের মধ্যে সম্মিলিত পণ্য বাণিজ্যের আকার ছিল ৪৬০ কোটি ইউরো। এ সময় ৩৭০ কোটি ইউরোর রফতানির বিপরীতে আমদানি করা হয় ৮৫ কোটি ইউরোর পণ্য। এ বাবদ অঞ্চলটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২৯০ কোটি ইউরোয়। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দ্বিমুখী সেবা বাণিজ্যের আকার ছিল ১৬৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৮৭ কোটি ইউরোর রফতানির বিপরীতে ইইউ আমদানি করেছে ৮০ কোটি ডলারের সেবা। অবশ্য ইইউর সম্মিলিত বাণিজ্যে ইরানের হিস্যা খুবই কম।
২০২৪ সালে ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলোর মধ্যে ইরানে ইইউর রফতানির হিস্যা ছিল দশমিক ১ শতাংশ। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝিতে উভয় অংশেই বাণিজ্যের আকার ছিল ১ শতাংশ বা এর বেশি।
২০০৪ সালে ইইউ-ইরান বাণিজ্যের আকার ছিল ১ হাজার ৯৫০ কোটি ইউরো। ২০১১ সালে তা ২ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ সালের নিষেধাজ্ঞার পর ২০১৩ সালে বাণিজ্য কমে দাঁড়ায় ৬১০ কোটি ইউরোয়। এরপর ২০১৭ সালে ছিল ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার, বাণিজ্যের এ উল্লম্ফনে সেবার বড় ভূমিকা রাখে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি।
ইইউর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার জার্মানি। ২০২৪ সালে ইইউ-ইরান মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল জার্মানির সঙ্গে। এ সময় জার্মানি ২১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর পণ্য আমদানি করেছে, আর রফতানি পণ্যের মূল্য ছিল ১২৭ কোটি ইউরো। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ইইউ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ইতালি, এর পরিমাণ ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ইরান থেকে ১৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর পণ্য আমদানির বিপরীতে দেশটি রফতানি করেছে ৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে এর পরের অবস্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন, ফ্রান্স ও বুলগেরিয়া।
ইরানের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য সাধারণ আমদানি নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। কারণ ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউটিও) সদস্য নয় ইরান এবং ইইউর সঙ্গে দেশটির ˆকানো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নেই।
ইরানে ইইউর রফতানি মূলত যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জামে কেন্দ্রীভূত। ২০২৪ সালে এ বিভাগে রফতানি মূল্য ছিল ১২৮ কোটি ইউরো, যা দেশটিতে ইইউর মোট রফতানির ৩৪ শতাংশ। ৩১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাসায়নিক ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, এর আকার ১১৩ কোটি ইউরো। অন্যদিকে ইরান থেকে ইইউর আমদানি কয়েকটি মূল বিভাগে কেন্দ্রীভূত। শীর্ষে রয়েছে খাদ্য ও জীবন্ত প্রাণী। এরপর রয়েছে ধাতব ও রাসায়নিক সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং জ্বালানি তেল-বহির্ভূত অপরিশোধিত কাঁচামাল।